হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা। সেখানে লেখা ‘সেভ প্যালেস্টাইন ফ্রম দ্য টেরোরিস্ট ইসরায়েল।’ গত অক্টোবরে মালদ্বীপকে হারানোর পর সতীর্থদের নিয়ে এভাবেই ফ্রেমবন্দী হয়েছিলেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এভাবেই একাত্মতা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ দল। সেই ফিলিস্তিন এবার বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।
পেশাদার ফুটবলে মুখোমুখি হওয়ার মঞ্চে আবেগের জায়গা খুব একটা নেই। স্বাভাবিকভাবে বৃহস্পতিবার কুয়েতের জাবের আল-আহমাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্বনাথ-জামালরা নামবেন আবেগের স্রোতকে পাশ কাটিয়ে। ভালো কিছু করার লক্ষ্যে।
লক্ষ্যের প্রশ্নে কোচ, খেলোয়াড়দের কণ্ঠে ঘুরেফিরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পয়েন্ট পাওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলা, কৌশল ও শারীরিকভাবে এগিয়ে থাকা শক্তিশালী ফিলিস্তিনকে আটকে দিতে চাওয়ার কথা। সংবাদ সম্মেলনে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কণ্ঠেও সেই একই সুর। গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপপর্বে লেবানন ও সেমি-ফাইনালে কুয়েতের বিপক্ষে হারলেও ওই ম্যাচগুলো লড়াকু পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি পেতে চাইছেন ফিলিস্তিন ম্যাচের অনুপ্রেরণা।
আমাদের দলটি বিশেষ করে গত বছর থেকে বিকশিত হচ্ছে, উন্নতি করছি আমরা। দলে অনেক খেলোয়াড় আছে, সৌদিতে আরবে ভালো একটা ক্যাম্প করার পর সঠিক ও দল অন্তঃপ্রাণ সিনিয়রদের সাথে ভালো মেধাবী তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছি আমরা। সৌদিতে সুদানের বিপক্ষে ভালো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি, এখানে এসেও অনুশীলন করেছি।”
“ফিলিস্তিনের মান ও শক্তি নিয়ে বাস্তব ধারণা আছে আমাদের, বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে তারা যে এশিয়ান কাপ খেলেছিল, সেখানে তাদের খেলা দেখে। কিন্তু শক্তিশালী ও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে থাকা দলের বিপক্ষে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি এবং সেটা খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। আমরা সেই একই মানসিকতা নিয়ে ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবো, আশা করি ইতিবাচক ফল পাব।”
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮৬ ধাপ এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনের বিপক্ষে জয়ের গল্প নেই বাংলাদেশের। ২০০৬ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ১-১ ড্র এখন পর্যন্ত সেরা প্রাপ্তি। এরপর খেলা পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতেই সঙ্গী হারের হতাশা। সবশেষ ২০২১ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের দেখায় ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।
একাত্তরের দেশ/ এ